পুকুরে PH এর প্রভাব

১. ৪ থাকলে এসিডিটিতে মাছ মারা যায়।
২. ৪-৫ এর মধ্যে প্রজনন বন্ধ হয়ে যায়।
৩. ৪-৬.৫ বৃদ্ধি কমে যায়।
৪. ৬.৫-৯ মাছ চাষে আদর্শ ।
৫. ৯-১০ বৃদ্ধি কমে যায় ।
৬. ১১-১৪ হলে ক্ষারত্বে মাছ মারা যায় ।

পুকুরে নাইট্রোজেন (Nitrogen) বা অ্যামোনিয়া (Ammonia) কিভাবে টের পাবেন এর করনীয় এবং চিকিৎসা

পানির রং কালচে অথবা তামাটে হয়ে গেলে বুঝতে হবে পানিতে অ্যামোনিয়া বেড়ে গেছে । মাছের অ্যামোনিয়া সহনীয় মাত্রা <০.৪ মিলি গ্রাম/লিটার, নাইট্রোজেন এর পরিমান বেড়ে গেলে মাছের রং বাদামী ধারন করে এ থেকে বেশি হলে মাছ এলো মেলো ভাবে ছুটাছুটি করে এবং অনেক সময় মৃত্য বরণ করে । অব্যবহৃত খাদ্য এবং মাছের মল পানিতে পচে নাইট্রোজেন এর বিভিন্ন যৌগ যেমন অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইট ইত্যাদি উৎপন্ন হয় ।

পানিতে এসব যৌগ বেড়ে গেলে মাছের পীরন বৃদ্ধি পায় । অ্যামোনিয়া পরিমান ০.০৫ মিলি গ্রাম/লিটার এর বেশি হলে মাছের ফলকা ক্ষতি গ্রস্থ হয় এবং মাছ দূর্বল হয়ে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে ।

প্রতিকারঃ-

১০০ শতাংশ ৫ ফিট গভীর জলাশয়ের জন্য Amo Zeo (100 gm) ভিজা বালির সাথে মিশ্রণ করে পুকুরের সকল জায়গায় ছিটিয়ে দিতে হবে।
আর যদি পুকুরের মাছ খাবি খওয়া ভাব থাকেলে এর সাথে Gasout + O2 প্রতি ৩৩ শতাংশে ১ প্যাকেট একত্রে মিশ্রণ করে পুকুরে সর্বত্র ছিটিয়ে দিতে হবে ।

ক্ষতরোগ :

এ রোগকে ইপিজুটিক আলসারেটিভ সিনড্রোম বলা হয়ে থাকে আক্রান্ত মাছঃ শোল, গজার, টাকি, পুঁটি, বাইম, কৈ, মেনি, মৃগেল, কার্পিও এবং পুকুরের তলদেশে বসবাসকারী অন্যান্য প্রজাতির মাছ

রোগের লক্ষণঃ

  1. হাঁস পোকা, মাখন পোকা, সুজি পোকা এবং মাছের সকল ধরনের উকুন কামড়ের ফলে ক্ষতর সৃষ্টি হয়।
  2. পানির PH এর মান বেড়ে গেলে ক্ষারত্ব হয় ফলে মাছের গাঁ ছিলে যায় বা ক্ষতর সৃষ্টি হয়।
  3. আক্রান্ত স্থানে তুলার মত সাদা পদার্থ জমা হয়।
  4. লেজ ও পাখনায় সাদা দাগ সৃষ্টি হয়।
  5. লেজ ও পাখনার পঁচন ধরে এবং ক্ষত হয়।
  6. মাছ দেহের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে রোগ দেখা দেয়ার ২-৩ দিনের মধ্যে ব্যাপক হারে মাছ মারা যায়।
ক্ষতরোগ

চিকিৎসাঃ

  1. উঁকুন নাশক এবং পোকা মাকড় মাড়ার জন্য Turbo Shot ১ মি.লি. / ১ শতাংশে ৫ ফিট গভীরতা জলাশয়ের জন্য প্রয়োগ করতে হবে এবং পরের দিন Finish Sol / Fish Guand ব্যবহার করতে হবে।
  2. ক্ষত, আলসার, পাখনা পঁচা, ফুলকা পঁচা, ঘা দেহের ভিতরের অংশে চলে যায় তাহলে প্রতি টণ মাছের জন্য Bio-C-200 gm প্লাস Cod Liver Oil-200 ml প্লাস Ecogen-100 gm প্রতি দিন এক বার করে পর পর ৫ দিন খাওয়াতে হবে।

প্রতিরোধ

  1. মাছ ছাড়ার পূর্বে পুকুরে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে এবং পুকুরের তলার অতিরিক্ত কাদা তুলে ফেলতে হবে
  2. সঠিক ঘনত্বেব মাছ মজুদ করতে হবে
  3. পুকুরে পরিমিত মাত্রায় সার ও খাদ্য প্রদান করতে হবে
  4. সুস্থ সবল পোনা মজুদ করতে হবে
  5. মজুদের পূর্বে মাছের পোনাকে শতকরা ১ ভাগ লবণ মিশ্রিত পানিতে ২০-২৫ মিনিট গোসল করালে রোগ সংক্ষমণের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়